একবছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের হিসেব-নিকেশ: পরিবর্তনের পথে কতদূর এগোল বাংলাদেশ?

সংবাদ ডেস্ক: কোটা সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে সরকার যেভাবে বলপ্রয়োগ করেছিল, তারই প্রতিক্রিয়ায় গত বছর দেশজুড়ে তৈরি হয় এক নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থান। ১ জুলাই শুরু হওয়া সেই অহিংস আন্দোলনের জবাবে যখন গুলি চালানো হয় এবং প্রাণ হারান প্রায় দেড় হাজার মানুষ, তখনই বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট।

ফলে ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে শপথ নেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তবে একবছর পেরিয়ে গেলেও সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ ফ্যাসিবাদী আচরণ দমনে সরকার এখনও সফল নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি, যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রয়েছে।”

এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারের কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একবছরের সময়সীমাকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তাঁর ভাষায়, “সব ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া একটি সিস্টেম নিয়ে শূন্য থেকে কাজ করতে হয়েছে নতুন সরকারকে। যেখানে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রায় সব স্তরে একটি কল্যাণমুখী কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে।"

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য ছাড়া কোনো সংস্কারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। “যেসব ক্ষেত্রে ঐকমত্য হবে, সেগুলো স্বাক্ষরিত হওয়া উচিত,” — মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন, প্রশাসনিক সংস্কার ও বিচারব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। “এবার সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকেই লক্ষ্য সরকারের,”— যোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সবাই স্ব স্ব পেশায় ফিরে যাবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন ১৩ উপদেষ্টা

আপনার মতামত কী? এই একবছরে অন্তর্বর্তী সরকার কতটা সফল হয়েছে বলে আপনি মনে করেন? কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে আমরা কি এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি আরও বড় চ্যালেঞ্জ সামনে অপেক্ষা করছে?

Next News Previous News