একটি পরিবারের সাত প্রাণ কেড়ে নিল মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জগদীশপুরে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের সাতজন সদস্য। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওমানপ্রবাসী আবদুল বাহারকে নিয়ে ফিরছিলেন পরিবারটি—তাঁদের মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় খালে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় একটি গোটা পরিবার।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাহারের মা, স্ত্রী, দুই পুত্রবধূ, তিন নাতনি এবং শাশুড়ি। দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছেন বাহার নিজে ও গাড়ির চালকসহ চারজন। গাড়ির চালকের ঘুম ঘুম ভাবকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চৌপালী এলাকার কাসারি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পাশাপাশি শায়িত সাতটি নিথর দেহ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। বিছানায় শুয়ে থাকা বৃদ্ধ আবদুর রহিমের মুখে কোনো কথা নেই, চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নীরব জল। স্ত্রী, সন্তানবধূ, নাতনিদের হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ তিনি।

“আমি ফিরে আসছিলাম সবাইরে বুকে জড়িয়ে ধরতে, অথচ চোখের সামনে সবাইরে হারাই ফেললাম। কারে ছেড়ে কারে বাঁচাব বুঝতে পারি নাই, আমি এখন কারে নিয়ে বাঁচব”—তাঁর ভাষায়, আবদুল বাহার বর্ণনা করছিলেন নিজের ফিরে আসার দিনেই জীবনের সবচেয়ে বড় হারানোর গল্প।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় বাহার নিজে জানালা ভেঙে বের হতে পারলেও, পেছনের সিটে থাকা বাকি সদস্যরা গাড়িতেই আটকে পড়েন। মাইক্রোবাসটি প্রায় নৌকার মতো ভাসছিল খালে, কিন্তু চালক দরজার লক না খুলে নিজে একটি জানালা দিয়ে বের হয়ে যান।

নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের চৌমুহনী স্টেশনের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, “গাড়িতে চালকসহ ১১ জন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর চালকসহ ৪ জন বের হতে পারলেও, বাকি ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাড়ির পেছনের অংশে থাকা যাত্রীরাই প্রাণ হারিয়েছেন।”

এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, একই পরিবারের এতজন নারী ও শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাচ্ছন্ন। মানুষের ভিড়, কান্না আর স্তব্ধতা—সব মিলিয়ে যেন এক করুণ দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে কাসারি বাড়িতে।

সাম্প্রতিক হালনাগাদ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ফায়ার সার্ভিস, তবে ভোরবেলা হওয়ায় সময়মতো সহায়তা পেতে বিলম্ব হয়। এখনো চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তোলে: শুধুমাত্র চালকের অবহেলা আর নিয়ন্ত্রণহীনতার বলি হতে হবে কি আরও পরিবারকে? আপনার মতামত কী?

```
Next News Previous News