ছাত্র অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত, ঘুরে দাঁড়াতে সক্রিয় আওয়ামী লীগ
ছাত্রজনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছিলেন সাবেক সরকারপ্রধান। এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সরকার পতনের পর, রাজনৈতিক ময়দানে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন কৌশলে এখন ব্যস্ত সেই দল—আওয়ামী লীগ।
দলের দাবি, এই পতন ছিল "দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফল"। তাদের ভাষায়, ‘ষড়যন্ত্র না হলে শেখ হাসিনার সরকার হঠানো সম্ভব হতো না।’ এখন সেই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’কে সামনে রেখেই রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছে তারা।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ব্যর্থতা—বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা—তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
তবে গত জুলাই-অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির ঘটনার জন্য দলটি এখনো প্রকাশ্যে অনুশোচনা করেনি। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের শাসনে আওয়ামী লীগ নিজেই রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, প্রতিপক্ষ তো বটেই, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও একরকম একঘরে হয়ে পড়েছিল দলটি।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই নিজেদের সংগঠিত করার কাজে লিপ্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা গত এক বছরে ভার্চুয়াল বৈঠক ও টেলিফোনে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া দলের বর্তমান মুখপাত্র মাহাম্মদ আলী আরাফাত জানাচ্ছেন, “আমাদের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যোগাযোগ বেড়েছে।” তাঁর ভাষায়, ‘দল এখন অনেক বেশি সংগঠিত।’
আন্দোলন দমনের পর গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় দলটি আবার মাঠে সক্রিয় হতে চায়। আওয়ামী লীগের দাবি, গোপালগঞ্জে স্থানীয় জনগণও তাদের পক্ষে প্রতিরোধ গড়েছিল, যা তাদের মনোবল ফিরিয়ে এনেছে।
তবে এরপর শুরু হওয়া ব্যাপক গ্রেফতার অভিযানে গোপালগঞ্জেই দলের নেতাকর্মীরা ক্র্যাকডাউনের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে ১৩টি মামলায় ১৫ হাজারেরও বেশি আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দলের নেতারা স্বীকার করছেন, ঢাকার বাইরে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান এখনো গোপালগঞ্জের মতো শক্তিশালী নয়। তাই তারা এখনই আর শক্তি ক্ষয় করতে চান না। বরং আরও সংগঠিত হয়ে, পরিস্থিতি বুঝে মাঠে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আন্তর্জাতিক সমর্থন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের মন জয় করতেও কূটনৈতিকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
দল কি পারবে নতুন করে আস্থা ফিরে পেতে? না কি ইতিহাসই হয়ে উঠবে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ? আপনার ভাবনা কী?
