জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জামায়াতের 'ইতিবাচক' সাড়া, তবে দাবি পুরণে অনড়

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য ঘোষণা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনার ঝড়। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী ঘোষণাকে 'ইতিবাচক' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির এক বিবৃতিতে জানান—“আমরা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত টাইমলাইনকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটি আমাদের আগেই ঘোষিত টাইমলাইনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে নির্বাচনের আগে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি পূরণ করতেই হবে।”

তাঁর ভাষায়, “জুলাই ঘোষণাপত্রে গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আমরা চাই, জনআকাঙ্ক্ষা ও ঐতিহাসিক সত্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ঘোষণা দেওয়া হোক।”

জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, জুলাই ঘোষণায় ১৯৪৭-এর প্রেক্ষাপট, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২৮ অক্টোবরের প্রাণহানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর উল্লেখ নেই। তারা বলছে, এটি ইতিহাসের প্রতি অবিচার এবং জনগণের ত্যাগের প্রতি অশ্রদ্ধা।

তাঁর মতে, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। অথচ ৬টি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত, ১৯ দফা ঐকমত্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণায় অনুপস্থিত।”

জামায়াত মনে করে, নির্বাচনের আগে একটি নিরপেক্ষ 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সব বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভেতরে থাকা পক্ষপাতদুষ্টদের অপসারণের দাবি জানানো হয়।

তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই জুলাই জাতীয় সনদের দ্রুত চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করে সেটির আইনি ভিত্তি দেওয়া হোক—অধ্যাদেশ, এলএফও বা গণভোটের মাধ্যমে।”

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া নির্বাচনী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এখনো পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

প্রশ্ন রইল জাতির কাছে—

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর এই 'জনআকাঙ্ক্ষা' পূরণে সরকার কতটা আগ্রহী হবে? আর কীভাবে তৈরি হবে একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের সঠিক পথ?

Next News Previous News