যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, দৃষ্টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন তিনি। সরকারি সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। চলতি সপ্তাহেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই সফরটি মূলত একটি “ফিরতি সফর” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত জুলাইয়ের শেষদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড—সেন্টকম-এর প্রধান জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা পাকিস্তান সফর করেন। সেই সফরের প্রতিক্রিয়াতেই এবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেনারেল কুরিলা সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়া সফর করেন এবং পাকিস্তান ছিল সেই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সফরে তাকে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ (সামরিক)’ খেতাবে ভূষিত করে পাকিস্তান সরকার।
এর আগেও চলতি বছরের জুন মাসে ওয়াশিংটন সফরে যান আসিম মুনির। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান— যা সাধারণত কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্যই বরাদ্দ থাকে।
যদিও এবারের সফর নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাস, তবে আগের সফরের সময়ই আসিম মুনির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি বছর শেষে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের এক শুনানিতে জেনারেল কুরিলা পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে চমৎকার অংশীদার” বলে উল্লেখ করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এদিকে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন— এমন গুজব জোরালো হলেও তা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এই বিষয়ে বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলার বা সেনাপ্রধানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।”
আইএসপিআরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর ভাষায়, “সেনাপ্রধানকে রাষ্ট্রপতি বানানোর কথা পুরোপুরি বাজে কথা।”
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সফর নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এই সফরের ফলাফলের ওপর।
প্রশ্ন রইল, আসিম মুনিরের এই সফর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে? এবং যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক কি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে?
