জাতীয় দিবসে কক্সবাজার সফর! পাঁচ নেতাকে শোকজ করলো এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে আলোচিত এক পরিস্থিতি। দলের গুরুত্বপূর্ণ দিবসে হঠাৎ কক্সবাজার সফর এবং সেই সফরকে কেন্দ্র করে পাঁচ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ।

দলটির দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এসব নেতাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া নেতারা হলেন—এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক, দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও এক যুগ্ম আহ্বায়ক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে দলীয় কর্মসূচি উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজারে গিয়েছেন তারা।

নোটিশে বলা হয়েছে, “এই সফরের বিষয়ে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ পূর্বে কিছুই জানতো না। আপনারা কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর পেছনে কী যুক্তি ছিল—তা লিখিত আকারে জানিয়ে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিন।”

এই সফর ঘিরে ইতোমধ্যে একটি গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। কক্সবাজারের একটি হোটেলে এনসিপির কয়েকজন নেতা বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন—এমন খবর চাউর হলে তা রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়ায়।

তবে এই খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন—
“তাঁর ভাষায়, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব, আমাদের সফর ছিল ব্যক্তিগত।’”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: এনসিপির জুলাই ঘোষণাপত্র ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এ সফর এবং তার জের ধরে এই শোকজ—দলটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের অভিমুখ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।

প্রশ্ন রয়ে গেলো: জাতীয় দিবসে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে নেতৃত্বের এমন সিদ্ধান্ত কী দলীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে? আর এই ঘটনার পেছনে আদৌ কোনো গোপন বৈঠকের সূত্র আছে কি না—তা সময়ই বলে দেবে।

Next News Previous News