ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মিজান’ জানায়, ‘বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক রায় অনুমোদনের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি রুজবেহ ভাদি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষে কাজ করছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী সম্পর্কে গোপন তথ্য ফাঁস করেছিলেন।

সম্প্রতি ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন একটি আইন পাস করা হয়েছে। এই আইনের আওতায়, কেউ যদি শত্রুরাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর হয়ে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত থাকে, প্রমাণিত হলে শুধু মৃত্যুদণ্ডই নয়, তার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে এই আইন পাসের পর দেশটির বেশ কয়েকজন আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের এক বিশেষ দূতও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও অন্তত এক ডজন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফেরেদুন আব্বাসি, যিনি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান ছিলেন এবং মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি, যিনি ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও খবর: পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার, শেহবাজের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন
আরও পড়ুন: ইরান থেকে ১৫ লাখের বেশি আফগানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে

এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তানীতি গ্রহণ করতে পারে।

প্রশ্ন রইল: ইরান যেভাবে অভ্যন্তরীণ আইনে পরিবর্তন এনে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা কি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে?

Next News Previous News