মাইলস্টোনে ফের শ্রেণিকক্ষে প্রাণের স্পন্দন, ক্লাসে ফিরলো শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ নীরবতা ও শোকের ছায়া কাটিয়ে অবশেষে প্রাণ ফিরে পেল রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কলেজ শাখার (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেন। শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা শুরুর মধ্য দিয়ে আবারও মুখর হয়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, “শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই আজ থেকে পাঠদান শুরু হয়েছে।”

এর আগে রোববার, কলেজ চত্বরে এক দোয়া ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাঁরা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন সহপাঠীরা।

পেছনের ঘটনা: গত ২১ জুলাই রাজধানীর দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। ঘটনাস্থলে মৃত্যু ঘটে শিশুসহ ৩৪ জনের, যার মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরাও। বহু আহত ব্যক্তি এখনো রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মানসিক আঘাত থেকে সেরে উঠতে সহায়তা করতে কলেজ ক্যাম্পাসেই স্থাপন করা হয়েছে একটি বিশেষ কাউন্সেলিং সেন্টার। এই সেবার আওতায় শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও রয়েছেন।

সাম্প্রতিক অগ্রগতি: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাউন্সেলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যতদিন না শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হয়।

এই ধরনের ট্র্যাজেডি পেছনে ফেলে কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংকট মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারে—এই প্রশ্ন এখন শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আপনার মতামত কী? শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কী আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

Next News Previous News