মুরাদনগরে ‘মাফিয়াতন্ত্র ও আতঙ্কের জনপদ’—উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিস্ফোরক অভিযোগ

কুমিল্লার মুরাদনগরে একটি ভয়াবহ বাস্তবতা! ছাত্রদলের দাবি, সেখানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে এক মাফিয়াতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের পরিবেশ। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, যিনি সম্প্রতি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে এসব অভিযোগ তুলেছেন।

তাঁর ভাষায়, “যদিও তাকে শিশু উপদেষ্টা বলা হয়, কিন্তু আসিফ মাহমুদ অত্যন্ত ধূর্ত। তিনি নির্দলীয় সরকারের উপদেষ্টার পদে থেকে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজ এলাকায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করছেন।”

অভিযোগ উঠেছে, মুরাদনগরে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে বিএনপির জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলছে পরিকল্পিত হামলা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের পালা। ছাত্রদল নেতার মতে, এতে পুরো মুরাদনগর আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা এই উপদেষ্টার প্রভাবে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া অনেক নেতাকর্মীর জামিন স্থানীয় আদালতে বাতিল করে তাদের ফের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এমন এক ঘটনার জেরে মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম মাহমুদের মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

কারাগারে বন্দি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি নাজিম মাহমুদের মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান। এরপর নাছির বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, মুরাদনগরের পরিস্থিতি তা সম্পূর্ণ বিপরীত।”

ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে দলের ১৩ জন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বন্দি রয়েছেন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরাও এলাকায় ফিরতে পারছেন না। তিনি বলেন, “গত ১৬ বছরে যারা দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, সেই দলের কোনো কর্মী এখন কুমিল্লা কারাগারে নেই। বরং তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত আছেন।”

উপদেষ্টার উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ কখনোই মাফিয়াতন্ত্র ও নতুন স্বৈরশাসন মেনে নেবে না। এই অপশাসনের ফল আপনাকেই একদিন ভোগ করতে হবে।”

সাম্প্রতিক আপডেট:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের ওপর চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টেও এধরনের স্থানীয় নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। তবে, অভিযুক্ত উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন রয়ে গেল—মুরাদনগরের এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে কোথায় দাঁড়াবে নিরপেক্ষ প্রশাসনের দাবি? আর যদি মিথ্যা হয়, তবে এমন বারবার অভিযোগ উঠছে কেন? আপনার মতামত কী?

Next News Previous News