সংস্কার ছাড়া নির্বাচন মানি না”—প্রধান উপদেষ্টাকে হুঁশিয়ারি জামায়াত নেতার
রাজপথে না থেকেও ক্ষমতায়—ড. ইউনূসকে জামায়াত নেতার তীব্র সমালোচনা
পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন কঠোর অবস্থান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র আশঙ্কা, যদি সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালী রেলগেট এলাকায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল ও সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা আপনাকে ভালো মানুষ হিসেবে জানি। আপনি বলছেন সংস্কার করবেন। কিন্তু আপনি যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করেন, তা হলে তা হবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি। সেখানে বক্তা বলেন, “জনগণ আপনাকে বসিয়েছে। আপনি কিন্তু রাজপথে ছিলেন না। টেলিভিশনের খবরে আমরা দেখেছি আপনি বিদেশে ছিলেন। রাস্তায় আপনার চেহারা দুরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের রক্তের মাঠে দাঁড়িয়ে, আমাদের লোকদের লাশের ওপর দিয়ে আপনি ক্ষমতায় গেছেন।”
তাঁর ভাষায়, “আমরাই এনেছি, আমরাই আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আমরা আশা করব, আপনার মতো সজ্জন ব্যক্তি জাতির সঙ্গে বেইমানি-বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি নয়, আদর্শের কারণে আপনাকে বসিয়েছিলাম। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপনাকে বসিয়েছিলাম। যদি আবার বিশ্বাসঘাতকতার গন্ধ পাই যে, আপনি স্বৈরাচারকে সহযোগিতা করছেন, কিংবা স্বৈরাচার গড়ার ষড়যন্ত্র করছেন, তাহলে জনগণ আপনাকেও ছাড় দেবে না।”
সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গে আপডেট: জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চীন, পাকিস্তান এবং ফিলিস্তিনের দূতাবাস থেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য: জামায়াত নেতাদের একাংশ মনে করছেন, তারা যে সংস্কারের কথা বলছেন তা বাস্তবায়নের আগেই নির্বাচনের ঘোষণা এলে তা হবে ‘জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।
প্রশ্ন রয়ে গেলো: যিনি রাজপথে ছিলেন না, তাকে যদি জনগণই ক্ষমতায় বসায়, তাহলে আজকের এই অসন্তোষের মূল ভিত্তি কী? আপনার মতামত কী?
