অপ্রত্যাশিত মোড়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, দিল্লিতে ছিল না প্রস্তুতি
ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রভাবশালী মহলে ৫ই অগাস্ট ছিল এক চরম ব্যস্ততার দিন। পার্লামেন্টের মনসুন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের শুরু হওয়ায়, বাকি থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে সরকারের পক্ষ থেকে ছিল তৎপরতা তুঙ্গে। কিন্তু এর মাঝেও দেশটির পররাষ্ট্র, নিরাপত্তা ও স্বরাষ্ট্রনীতির তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের চোখ ছিল অন্যদিকে—বাংলাদেশের দিকে।
সকাল থেকেই প্রতিবেশী বাংলাদেশে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে রাজধানী প্রায় অবরুদ্ধ। লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ—এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেটাই ছিল নজরে। কারণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির রেশ ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা ছিল: শেখ হাসিনা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে, তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, তিনি সংকট মোকাবেলায় সক্ষম।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলল। দিন শেষে ভারতের নীতিনির্ধারকরা বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পারেন—শেখ হাসিনা নাটকীয়ভাবে দেশত্যাগ করে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
যদিও এর আগে, ৪ঠা অগাস্ট রাতে সম্ভবত শেষবারের মতো দুই প্রধানমন্ত্রী মধ্যে হটলাইন কথোপকথন হয়। তবে সেখানেও শেখ হাসিনার দেশত্যাগ কিংবা ভারতের আশ্রয়ের প্রসঙ্গ একবারও তোলা হয়নি।
এর মধ্যে দুই দেশের নতুন সেনাপ্রধান—ভারতের জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং বাংলাদেশের জেনারেল ওয়াকার উজ জামান—পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। যদিও সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, তবুও ভারতের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস আগে থেকেই জানিয়ে রাখা হয়েছিল।
“তাঁর ভাষায়, ‘শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তে দেশত্যাগ এমন এক চিত্রপট তৈরি করেছে, যার জন্য দিল্লি মোটেও প্রস্তুত ছিল না।’” —এমনটাই জানিয়েছেন এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্র।
বর্তমানে শেখ হাসিনার অবস্থান, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও ভারতের ভূমিকাকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে।
প্রশ্ন রয়ে যায়—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু সংকট পার করা এক নেত্রী কি এবার সত্যিই ‘সারভাইভ’ করতে পারবেন? নাকি ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো এখানেই?
