হান্নান মাসউদকে একহাত নিলেন আবরার ফাইয়াজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের এক ফেসবুক পোস্টের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

তাঁর ভাষায়, “আপনি কী জানেন, যমুনা ঘেরাওয়ের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো কিনা? আপনি কী জানেন, পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে ভুলে গিয়েছিলো? আমরা প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে দুইবার থামিয়েছি, কিন্তু দুইবারই পুলিশ হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উস্কে দিয়েছে।”

আবরার আরও লিখেছেন, “আমরা হাত দিয়ে ব্যারিকেড বানিয়েছি, শিক্ষার্থীরা থেমেছে, অথচ পুলিশ পিছন থেকে এসে কিল-ঘুষি দিয়ে গলা ধরেছে। পোলাপান রাস্তায় শান্তভাবে বসার পরও তাদের দিকে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা বারবার অনুরোধ করেছি হামলা বন্ধ করতে, কিন্তু উল্টো আরো তীব্র হামলা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, মিন্টু রোড থেকে সরে আসার পরও শাহবাগ মেট্রোর নিচে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এমনকি এককভাবে পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়। তাঁর ভাষায়, “সুশীলতা ভালো, তবে যদি ৫ আগস্টের আগে সুশীল হতেন, আপনাকে হয়তো কেউ চিনতো না।”

এর আগে নিজের পোস্টে আবদুল হান্নান মাসউদ লিখেছিলেন, কথায় কথায় যমুনা ঘেরাও কোনো ভালো সংস্কৃতি হতে পারে না। তাঁর মতে, অবিবেচনাপ্রসূত এসব সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং সুযোগ নিচ্ছে পুরনো কাঠামোগুলো।

তাঁর ভাষায়, “রাষ্ট্রের পচে যাওয়া শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে বারবার ঠুনকো বিষয়ে রাস্তায় নামতে হবে। এই অসহিষ্ণুতা ইতোমধ্যেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভয়ংকর। শুরু হয়েছিল সিটি কলেজ-আইডিয়্যাল কলেজ দ্বন্দ্ব দিয়ে।”

প্রশ্ন এখন—শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কি আসন্ন সময়ের জন্য আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, নাকি এটি নতুন আলোচনার পথ খুলে দেবে?

Next News Previous News