শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোডে হিজাব বিতর্ক, অস্থিরতা বাড়ছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোডে হিজাব বিতর্ক

ড্রেসকোড ও হিজাব ইস্যুতে ভিকারুননিসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের দাবি—শালীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।

রাজধানীসহ দেশের অনেক সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রেসকোডের কারণে সমস্যায় পড়ছেন পর্দা করতে চাওয়া শিক্ষার্থীরা। হিজাব বা বড় ওড়না পরায় কখনও কখনও ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখায় এক শিক্ষক হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং পুনর্বহালের দাবি জানান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন,
“এখানে হিজাব পরায় কোনো বাধা নেই। আমাদের নির্ধারিত হিজাব আছে। অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই হিজাব পরে।”

শুধু ভিকারুননিসাই নয়, দেশের আরও কয়েকটি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। কারও দাবি—শিক্ষার্থীদের ড্রেসকোড শালীন ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে, যেখানে হিজাব পরার সুযোগও থাকবে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু জানান, অতীতে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে হিজাব ও টুপি ড্রেসকোডে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে তা বাদ দেওয়া হলে ব্যাপক আন্দোলন হয়। তাঁর ভাষায়, “আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম, সরকারিভাবে সারা দেশের জন্য একটি統 পোশাকবিধি করা হোক—যাতে শালীনতা ও হিজাব দুটিই নিশ্চিত থাকে।”

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন,
“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাম্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়। তাই একটি সুনির্দিষ্ট ড্রেসকোড দরকার। তবে সেটি যেন শালীন, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ সম্মান করে হয়।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর ড. খলিলুর রহমান মাদানী প্রস্তাব করেছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন করে শিক্ষার্থীদের হিজাব পরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বাধাদানকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া হিজাবের সুফল প্রচারে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাম্প্রতিক আপডেট:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রেসকোড ও হিজাব নিয়ে চলমান বিতর্ক পর্যালোচনার জন্য একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও শালীনতা—দুটোই গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Next News Previous News