রাজশাহীতে বিএনপির সম্মেলন ঘিরে নবজাগরণ, ঐক্য ও নেতৃত্বে আসছে পরিবর্তনের বার্তা
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে ফিরে এসেছে রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহানগর বিএনপির বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন। নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এবং সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।
দলের ভেতরে এই সম্মেলনকে ঘিরে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। চলছে ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট পর্যায়ে কাউন্সিল শেষ করার পর এখন পুরো মনোযোগ সম্মেলনকে সফল করার দিকে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এই সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দেবেন। পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এরপর তিন বছরের বেশি সময় ধরে ওই কমিটিই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির দিকে যাচ্ছে বিএনপি।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা বলেন, “রাজশাহীর নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মূল্যবান নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। এবার প্রায় ৭০০ কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। আশা করছি, সম্মেলনের পর দলের সব বিভক্তি কেটে যাবে।”
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ সুইটের ভাষায়, “যারা বিগত ১৫ বছরে দলকে ধরে রেখেছেন, তারাই এবার নেতৃত্বে আসবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “আমরা আশা করি, কাউন্সিলররা দলের জন্য নিবেদিত নেতাকেই নেতৃত্বে আনবেন।”
রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, “আমরা মনে করি এ সম্মেলন ঘিরে দল চাঙা হবে এবং গতি পাবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর এই সম্মেলন দলের সাংগঠনিক গতিশীলতার নতুন দিক খুলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল বক্তব্যে সম্ভাব্য কৌশলগত নির্দেশনাও আসতে পারে, যা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন রয়ে যায়: এই সম্মেলন কতটা কার্যকরভাবে বিভক্তি মেটাতে এবং নতুন নেতৃত্বকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবে? বিএনপি কি এই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে?
