জামিন পেতে যত ‘বাহানা’ তৌহিদ আফ্রিদির
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
দুপুরে আদালতে আনার পর জনাকীর্ণ এজলাসে হট্টগোল শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান সাত দিনের রিমান্ড চান। তবে আসামি পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল ইসলাম আফ্রিদি জামিনের আবেদন করেন।
তিনি আদালতকে জানান, আসামির ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, বরং আওয়ামী লীগের কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে ভিক্টিম নিহত হন। বাদীও আগেই এভিডেভিট দিয়ে বলেছেন, তৌহিদের নাম ভুলবশত যুক্ত হয়েছে। এছাড়া তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, অতিরিক্ত হাঁটাচলায় রক্তক্ষরণ হয়। তাঁর স্ত্রীও অন্তঃসত্ত্বা। এসব কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবীরা বলেন, আফ্রিদি একজন “মিডিয়া সন্ত্রাসী”, যিনি লাইভে এসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার উৎসাহ দেন। তাঁকে রিমান্ডে নিলে হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, কারা অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়েছে—তা জানা যাবে। প্রসিকিউশন তাই সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনানি শুনছিলেন আফ্রিদি। অভিযোগ অস্বীকারে তিনি মাথা নাড়েন। তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, আফ্রিদি আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন ঠিকই, তবে তাঁর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ব্যবসায়ী, কোনো দলের পদে নেই। আইনজীবী আরও জানান, আসামির স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় আদালতে আনা-নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা চাওয়া হয়।
সব শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে বের করার সময় আফ্রিদিকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়, তিনি পেটে হাত দিয়ে ব্যথা সামলাচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, তৌহিদ আফ্রিদিকে রোববার রাতে বরিশাল থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে। একই মামলায় এর আগে তাঁর বাবা মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪ যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন আসাদুল হক বাবু। পরদিন তাঁর বাবা জয়নাল আবেদীন হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদির নামও রয়েছে।
