সরকারের কিছু কিছু সিদ্ধান্ত মানুষের কাজে আসবে না : রাশেদা কে চৌধুরী
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, “আমাদের এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মনে হচ্ছে, শিক্ষাটা অগ্রাধিকার থেকে ছুটে গেছে। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত, কিছু কিছু কাজ তারা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না।”
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য’ বিষয়ক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, শুধু পুনর্গঠন নয়, বরং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে রূপান্তর প্রয়োজন। বই ছাপানো বা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না—প্রয়োজন নীতিবান মানুষ তৈরি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা দুর্বলতা তুলে ধরেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “গত ১৩ মাস ধরে শিক্ষা নিয়ে দেশে কেউ কথা বলে না। পরীক্ষা নিয়েও আলোচনা হয় না। অটোপাসের মতো সিদ্ধান্ত শিক্ষার মানকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে শিক্ষা কমিশন গঠন জরুরি, অন্যথায় অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে। একইভাবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য খাতের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। তাঁর ভাষায়, “সব স্তরের হাসপাতালগুলো সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।”
অন্য বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামে নতুন মেডিকেল কলেজ হলেও অবকাঠামো নেই, ব্যয়বহুল সরঞ্জাম অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে, অথচ সাধারণ চিকিৎসা সেবার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। অনেকেই বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা সরঞ্জাম কার্যকর নয়, অথচ প্রতিবছর হাজারো রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মত দেন যে, দেশের উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য বিকেন্দ্রীকরণ ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারকদের সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কেবল অবকাঠামো বা প্রকল্প বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকার কি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বাস্তব রূপান্তরের পথে নিয়ে যাবে, নাকি সিদ্ধান্তগুলো থেকে যাবে শুধু কাগজে-কলমেই?
