“শুধু হাসিনা দেশ ছেড়েছেন, এটাই প্রাপ্তি হতে পারে না”—নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণ না হলে ব্যর্থ হবে গণঅভ্যুত্থান: গণঅধিকার পরিষদ
নিউজ ডেস্ক: “শুধু হাসিনা দেশ ছেড়েছেন, এটিকে আমাদের একমাত্র প্রাপ্তি হিসেবে ধরলে চলবে না। যদি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে না পারি, তবে এই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের একজন শীর্ষ নেতা।
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের ১২টি প্রত্যাশা ছিলো, কিন্তু প্রাপ্তির খাতায় খুব কমই যোগ হয়েছে।”
ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত ১২টি পয়েন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো—
- আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে বরং পুনর্বাসনের অভিযোগ।
- শেখ পরিবারের কাউকে বিচারের আওতায় না আনা।
- গত ১৬ বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়া।
- প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া।
- গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার ও জবাবদিহির অভাব।
- শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের কাঠামোগত কোনো সংস্কার না হওয়া।
- ফ্যাসিবাদী চিন্তায় বেড়ে ওঠা প্রজন্মের জন্য কাউন্সেলিংয়ের অভাব।
তাঁর ভাষায়, “এই এক বছরে প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, মিডিয়া, বিচার বিভাগ—সবক্ষেত্রেই ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল থেকেছে। এই কাঠামো ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে না পারলে সব অর্জন বৃথা যাবে।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বক্তব্য সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক চলছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধুমাত্র নেতৃত্বে পরিবর্তন নয়, কাঠামোগত রূপান্তর ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন রইল আপনাদের প্রতি: আপনারা কি মনে করেন—শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন যথেষ্ট, নাকি কাঠামোগত পরিবর্তনই মূল চাবিকাঠি?
