বিতর্কের মুখে পাকিস্তানের শরণার্থী নীতি: “জবরদস্তিমূলক প্রত্যাবাসন” বন্ধের আহ্বান ইউএনএইচসিআরের

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানের শরণার্থী নীতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির অভিযোগ, বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক আফগান শরণার্থীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়, ‘ইলিগ্যাল ফরেনার্স রিপ্যাট্রিয়েশন প্লান’ বা আইএফআরপি কার্যক্রমের আওতায় ‘প্রুফ অব রেজিস্ট্রেশন’ (পিওআর) কার্ডধারী আফগান শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে। সরকার জানায়, ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে ইউএনএইচসিআর-এর মতে, এ সময়সীমা শুরু হওয়ার আগেই, ৬ আগস্ট থেকেই দেশজুড়ে গ্রেফতার এবং জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থার ভাষায়, “তাঁদের ভাষায়, ‘এভাবে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’”

পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ আফগান নাগরিকের কাছে পিওআর কার্ড রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হয় জুনে। সরকার এই কার্ড নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে, আরও অন্তত ৮ লাখ আফগান ‘আফগান সিটিজেন কার্ড’ধারী হলেও তাদেরও অবৈধ বলছে সরকার।

পাক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়, ৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ দিনের ‘অনুগ্রহকালীন সময়’ দেওয়া হয়েছে যাতে শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু ইউএনএইচসিআর বলছে, বাস্তবে এই সময়সীমার আগেই অনেককে জোর করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

আফগান শরণার্থীরা আশা করেছিলেন, অন্তত ব্যক্তিগত সম্পত্তি গুটিয়ে নেয়ার জন্য আরও সময় পাবেন। কিন্তু তা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না এলেও, ইসলামাবাদ অতীতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য আফগানদের দায়ী করে আসছে। অন্যদিকে, কাবুল সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রত্যাবাসন একেবারেই জবরদস্তিমূলক।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, “তাঁদের ভাষায়, ‘এত বড় সংখ্যক মানুষকে হঠাৎ ফেরত পাঠালে তাদের জীবন ও স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।’” এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি পাওয়া তথ্য: পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, ইতোমধ্যে ৮ লাখেরও বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানো হয়েছে আইএফআরপি প্রকল্পের আওতায় (সূত্র: Dawn)।

দর্শকদের প্রতি প্রশ্ন: মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, এ ধরনের প্রত্যাবাসন কতটা ন্যায়সঙ্গত? নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের ভারসাম্য কোথায় থাকা উচিত?

Next News Previous News