মঞ্চ ৭১’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম

রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মঞ্চ ২৪’ সংগঠন জানিয়েছে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির সহায়তায় ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি দেশবিরোধী প্ল্যাটফর্ম সক্রিয় হয়েছে। এ সময় তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দেয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান ও মুজিববাদী স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, “এটি একটি ফ্যাসিবাদী প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সক্রিয়।”

তারা আরও দাবি করে, গোয়েন্দা সংস্থার আগে থেকেই এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানা উচিত ছিল। কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতাকে তারা “সম্ভাব্য অনুমোদন” হিসেবে দেখছে। সংগঠনের মতে, অবহেলা চলতে থাকলে দেশকে ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘মঞ্চ ২৪’ অভিযোগ করে, তারা আগেই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করে ‘মঞ্চ ৭১’-এর বৈঠকের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা ডিআরইউ সভাপতির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

সংগঠনটি আরও হুঁশিয়ারি দেয়, যেসব গণমাধ্যম চব্বিশের বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রকাশ করছে, বিশেষ করে কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান—তারা যদি বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান না নেয়, তবে ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল্টিমেটামের দুটি দাবি:

  • আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ‘মঞ্চ ৭১’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • ডিআরইউ সভাপতি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, যারা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করছে, তারা অবস্থান পরিবর্তন না করলে সাত দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ আপডেট: রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ চলছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—এই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দেবে, নাকি প্রশাসন দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করবে?

Next News Previous News