মাগুরায় মাদরাসার ছাত্রকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ
মাগুরার শ্রীপুরে একটি মাদরাসায় নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সুপারের খাবার আনতে দেরি হওয়ায় ১২ বছরের জুনায়েদ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাকোল-কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামি মাদরাসায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার রাতে খাবার আনতে বাইরে পাঠানো হয় জুনায়েদকে। খাবার আনতে সময় লাগায় মাদরাসার সুপারের রোষানলে পড়তে হয় তাকে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পরও শিশুটিকে চিকিৎসা না দিয়ে মাদরাসায় আটকে রাখা হয় এবং কাউকে কিছু জানাতে ভয় দেখানো হয়। পরদিন দুপুরে কোনোমতে পালিয়ে বাসায় ফিরলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
শিশুটির বাবা জানান, চার বছর আগে হাফেজ বানানোর জন্য ছেলেকে ভর্তি করেছিলেন ওই মাদরাসায়। কিন্তু প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় সুপারের হাতে নির্যাতনের শিকার হতো জুনায়েদ। তাঁর ভাষায়, “বুধবার রাতে খাবার আনতে দেরি হওয়ায় সুপার ছেলেকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেন।”
জুনায়েদের নিজস্ব বর্ণনায় উঠে আসে আরও ভয়াবহ চিত্র। তাঁর ভাষায়, “রাত ৯টার দিকে খাবার নিয়ে ফিরলে আমার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। কাপড় খুলে মোমবাতির আগুনে খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ করলে আরও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসা সুপার। তাঁর ভাষায়, “আমি রাতে মাদরাসায় তালা দিয়ে নিজের ঘরে যাই। কখন কী ঘটেছে জানি না।”
এ বিষয়ে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষায়, “অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সর্বশেষ আপডেট
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন রইল—এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবে কে?
