রুশ তেল আমদানিতে ভারতের ধনী পরিবারগুলো সর্বাধিক লাভবান – অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের মাধ্যমে ভারতের কয়েকটি ধনী পরিবার বিপুল লাভ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর ভাষায়, “ভারতের কিছু ধনী পরিবার রুশ তেল আমদানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে।”
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এশিয়ার অন্যতম ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। তাঁর মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজই রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করছে। ২০২১ সালে গুজরাটের জামনগর রিফাইনারিতে যেখানে মাত্র ৩ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এসেছিল রাশিয়া থেকে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৫ সালে সেই পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা মানার পরিবর্তে চীন ও ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে।” এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে।
তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত জামনগর রিফাইনারি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়েছে প্রায় ৮৫.৯ বিলিয়ন ডলারের পরিশোধিত তেল। এর মধ্যে ৩৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল গেছে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলোতে—যার মধ্যে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নেই রফতানি হয়েছে প্রায় ১৯.৭ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার।
তবে সমালোচকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। অনেকের মতে, এক কোম্পানির লাভের জন্য ভারতের জনগণকে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন—দেশের সাধারণ মানুষের চেয়ে কি মোদি সরকার মুকেশ আম্বানির স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে? আবার অনেকে ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। কারণ, চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য আলোচনায় এ শুল্ক ইস্যুটি প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের চাপ ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক কূটনীতি আর অর্থনৈতিক স্বার্থের এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ভারতের অবস্থান কীভাবে গড়ে উঠবে?
