ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি: “রাশিয়াকে বাদ দিলে সমাধান হবে না”

ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পর সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট সমাধানের আলোচনায় রাশিয়াকে বাদ দিলে তা কোনোভাবেই সফল হবে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এখন সম্মিলিত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, অথচ রাশিয়াকে বাদ দিয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। এভাবে কাজ হবে না।” তাঁর ভাষায়, “পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে যে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করা নিছক ইউটোপিয়া।”

এই মন্তব্য আসলো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সাথে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈঠকের দুই দিন পর। একইসাথে কিছুদিন আগেই আলাস্কায় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল।

রাশিয়া দাবি করছে, যদি পুতিন-জেলেনস্কির বৈঠক হয়, তবে তা অবশ্যই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে আয়োজন করতে হবে, যাতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত না হয়।

এদিকে ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান পাল্টাতে “খুবই কৌশলহীন চেষ্টা” করছেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা কেবল পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার প্রচেষ্টা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান পাল্টাতে অদক্ষ চেষ্টা দেখেছি। কোনো গঠনমূলক ধারণা ইউরোপীয়দের কাছ থেকে পাইনি।”

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান সহকারী আন্দ্রি ইয়ারমাক জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সফরের পরই তিনি ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। এতে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর নিরাপত্তা উপদেষ্টারা অংশ নেন।

ইয়ারমাক আরও বলেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতিরক্ষা উপাদানগুলোর কাজ শুরু করেছে। তাঁর ভাষায়, “রাশিয়া যদি শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত করে, তবে মস্কোকে বিশ্বের কাছ থেকে আরও কঠিন চাপ সহ্য করতে হবে।”

সর্বশেষ আপডেট

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরা আসছে সপ্তাহে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আবারও আলোচনা বসতে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহল বলছে, রাশিয়াকে বাদ রেখে যেকোনো প্রক্রিয়া কার্যকর করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।


প্রশ্ন হচ্ছে—ইউক্রেন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা কি সমঝোতার পথে এগোবে, নাকি রাশিয়া ছাড়া এ সংকট আরও জটিল হয়ে উঠবে? আপনার কী মত?

Next News Previous News