ভারতে আওয়ামী লীগের গোপন অফিস: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতেই সংগঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। কলকাতার একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে দলটির গোপন পার্টি অফিস খোলার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ৫০০-৬০০ স্কয়ার ফুটের সেই অফিসে নেই কোনো সাইনবোর্ড, নেই ছবি বা আনুষ্ঠানিক নথি। সব কার্যক্রম চলছে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে, যেন এটি এক প্রকার ‘আন্ডারগ্রাউন্ড অপারেশন’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ কেবল আত্মরক্ষার কৌশল নয়, বরং এটি ভারতের একটি কৌশলগত দাবার চাল। স্বাধীন দেশের একটি রাজনৈতিক দল যদি অন্য দেশে অফিস চালায়, তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করার শামিল। তাঁর ভাষায়, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, বরং একটি ভূরাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ।”

প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, কলকাতা ও আশেপাশে অবস্থান করছে অন্তত ৮০ জন সাবেক সাংসদসহ প্রায় ২০০ জন আওয়ামী ঘরানার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পর্যন্ত। দলের শীর্ষ নেতারা দিল্লির উপকণ্ঠে থেকেও ভার্চুয়ালি বৈঠক করছেন। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছে ৩১ জুলাই।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। বাংলাদেশি জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—ভারত কি সত্যিই বাংলাদেশের বন্ধু, নাকি নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য এক প্রকার রাজনৈতিক প্রক্সি ব্যবহার করছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি তৈরি করছে।

বাংলাদেশের জনগণ গত কয়েক মাসে ভারতমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি দাবি করেছে। অথচ বিদেশে রাজনৈতিক নির্বাসন নিয়ে কার্যক্রম চালানো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে আরও নাজুক করে তুলছে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে প্রচার করা হলেও বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ এটিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভারতের প্রত্যক্ষ অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “বাংলাদেশে ক্ষমতা হারানোর পরও আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে বিদেশ থেকে রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। আর ভারত তাদের মদত দিচ্ছে।”

এদিকে, অর্থায়ন ও সংগঠন পরিচালনায় কতটা স্বচ্ছতা রয়েছে, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’দের অর্থ সহায়তায় দল চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে এর উৎস স্পষ্ট নয়।

উপসংহার

কলকাতায় আওয়ামী লীগের এই গোপন পার্টি অফিস নিছক একটি সংগঠনের কৌশল নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বড় একটি ইঙ্গিত। জনগণের প্রশ্ন—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কি আবারও প্রতিবেশী শক্তির ছায়াতলে চলে যাবে, নাকি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব অটুট রাখা যাবে?

Next News Previous News