বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে, সমালোচকদের নিজেদের অবস্থান দেখার আহ্বান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তাঁর ভাষায়, “যারা বিএনপির সমালোচনা করেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই। আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন।”
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ পরিচয় দলের মূল শক্তি। খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখনো শহীদ পরিবার ও নিপীড়িতদের পাশে আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আজকাল রাজনৈতিক আলোচনায় অনেকেই কর্তৃত্ববাদী ভাষা ব্যবহার করছেন, যা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। বিএনপি বিশ্বাস করে মানুষের ভোট ও অধিকার প্রতিষ্ঠায়। তিনি ছাত্র-যুবসমাজের ভবিষ্যৎ, ভঙ্গুর অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ধর্মের নামে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করুন। তাঁর ভাষায়, “আপনারা ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান না। সমালোচনা করবেন, তবে সেটা হোক বাস্তবধর্মী, বিভ্রান্তিকর নয়।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই দলের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। বড়লেখা সম্মেলনে সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও অন্যান্য পদে প্রতিযোগিতা হবে।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বিএনপি কখনো পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যায়নি, বরং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক সময়েই ভোট হবে এবং জনগণের রায়েই পরবর্তী সরকার নির্ধারিত হবে। তাঁর ভাষায়, “বিভেদ নয়, জনগণের কাছে যান। যাকে জনগণ ভালবাসবে, তাকেই তারা গ্রহণ করবে।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মতভেদে রয়েছে।
আপনার কী মনে হয়—আগামী নির্বাচন সত্যিই জনগণের আস্থার প্রতিফলন হবে, নাকি আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়বে দেশ?
