সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি: সমাধান চাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ
সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে চলতি বছরের সাত মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে গত ১৬ বছরে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬০৭ বাংলাদেশি। এ পরিস্থিতি ক্রমেই বাড়াচ্ছে সীমান্তে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেবল আলোচনায় সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না। তাঁদের মতে, বেসরকারিভাবে যৌথ সিভিল কমিশন গঠন কিংবা প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে রাজনৈতিক সমাধানই এই সংকট নিরসনের মূল চাবিকাঠি।
মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, সীমান্তে নিহতরা সাধারণ মানুষই—তাদের কারও হাতে অস্ত্র ছিল না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে আইন-বহির্ভূত হত্যা, আর বিষয়টি ভারতের জনগণকেই বোঝাতে হবে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধে একটি স্বাধীন সিভিল কমিশন গঠন করা জরুরি।”
২০১১ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রামের সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী সমালোচনার জন্ম দিলেও ভারতীয় পক্ষের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। চলতি বছরও বিজিবির এক সদস্যকে বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ, যার ব্যাখ্যা ছিল নিছক ভুলবশত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেছেন, “এটি বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং প্রতিবাদ জানাতে হবে। কূটনৈতিকভাবে যে প্রতিরক্ষা গ্রহণ করা দরকার, সবই নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি তুলতে হবে—আর সেই সময়টা এখনই।”
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত থাকা অন্য কোনো দেশে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটে না। চীনের সঙ্গে ভারত নিরস্ত্র পাহারার চুক্তি করেছে। বাংলাদেশও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রস্তাব দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। তাই সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন হলো—বারবার আলোচনার পরও যদি সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হয়, তবে বাংলাদেশ কি এবার আন্তর্জাতিক আদালতের পথে হাঁটবে?
