সিলেটে জেলা প্রশাসকের আল্টিমেটাম: দুই দিনে ফেরত এল সাড়ে ৪ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর

সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে নতুন জেলা প্রশাসকের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার কৌশলী আল্টিমেটামের ফল মিলতে শুরু করেছে। মাত্র দুই দিনেই স্থানীয়রা ফেরত দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর। এর মধ্যে রোববার ফিরেছে ২ লাখ, আর সোমবার ফিরেছে আরও আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ হচ্ছে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে— সময় আর বাড়ানো হবে না। এর পর কারও কাছে লুট হওয়া পাথর পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, আল্টিমেটামের পর আতঙ্কে পড়ে স্থানীয়রা নিজ খরচে ট্রাক ও নৌকায় করে পাথর ফেরত দিচ্ছেন। গত শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেড় থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তি পাথর জমা দিয়েছেন ভোলাগঞ্জে।

প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টার মধ্যে স্বেচ্ছায় সব পাথর ফেরত দিলে দায়মুক্তি মিলবে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভাষায়, “মঙ্গলবার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে চিরুনি অভিযান। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক, লুটকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে, লুট হওয়া পাথর উদ্ধার ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমও চলছে। ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১২ লাখ ঘনফুটেরও বেশি পাথর, যার মধ্যে আড়াই লাখ ঘনফুট প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো প্রতিস্থাপন কাজ শেষ হবে।

এর আগে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়— সময়সীমা পেরিয়ে অভিযান চালিয়ে যেসব এলাকায় পাথর উদ্ধার হবে, সেই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেট

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, সময়সীমার শেষ দিনে আরও বিপুল পরিমাণ পাথর ফেরত আসতে পারে। অনেকেই গোপনে লুটকৃত পাথর ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে চিরুনি অভিযানের আগে সর্বোচ্চ পাথর ফেরত আসে।

প্রশ্ন থেকে যায়— সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এই কৌশলী পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান দিতে পারবে তো? নাকি সময়সীমা পেরোলেই আবারও বাড়বে অবৈধ লুটপাট?

Next News Previous News