সেনাপ্রধানের ‘প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার গুঞ্জন! পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানাল স্পষ্ট বার্তা

ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সামরিক সাফল্যের কারণে প্রশংসিত হচ্ছেন, তখনই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন এক আলোচনা—তিনি কি প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন?

তবে এই গুঞ্জনা নাকচ করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। সংস্থাটির মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ব্রিটিশ সাময়িকি ইকোনমিস্ট-কে বলেন, “সেনাপ্রধানকে ঘিরে এই জল্পনা-কল্পনা ভিত্তিহীন। সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট পদ চান এমন কোনো সত্যতা নেই।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারত যদি আবারো আগ্রাসন চালায়, পাকিস্তান তার পূর্ব দিক থেকেই প্রতিক্রিয়া জানাবে। আমাদের সক্ষমতা আছে ভারতকে সর্বত্র জবাব দেওয়ার।”

এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কখনোই প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি, এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। আমি, প্রেসিডেন্ট জারদারি ও সেনাপ্রধান একসাথে দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভী আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কুৎসিত প্রচার চালানো হচ্ছে—আমরা জানি এর নেপথ্যে কারা আছে। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে চারদিনের সংঘাতের পর, পাকিস্তান সরকার জেনারেল আসিম মুনিরকে ‘ফিল্ড মার্শাল’-এর বিরল উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তানের ইতিহাসে এর আগে কেবলমাত্র জেনারেল আইয়ুব খান এই পদমর্যাদা পেয়েছিলেন। তিনিই পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন করে এই জল্পনার সূচনা হয়।

তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা বলেই মনে করছে ইসলামাবাদ। সরকার ও সেনা মহলের অবস্থান একটাই—এই পদোন্নতির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।

প্রশ্ন রয়ে যায়—সামরিক বাহিনীর জনপ্রিয়তা যখন শীর্ষে, তখন এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা কি পুরোপুরি অস্বীকার করা যায়?

Next News Previous News