বঙ্গোপসাগরে জরিপ বাড়ানোর আহ্বান, টেকসই মৎস্য আহরণে জোর
রাজধানীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন—বঙ্গোপসাগরে জরিপ চালিয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া মৎস্য সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির উপহার, আল্লাহর দান। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি আমরা অত্যন্ত নির্মম। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মাছ কপাল থেকে উঠে যাবে।”
তিনি বলেন, নদী শাসনের কথা আমরা বলি, কিন্তু নদী পালনের কথা বলি না। এতে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা অবৈধ জাল ব্যবহার, নদীতে বর্জ্য ফেলা, জলাশয় দূষণ এবং কৃষিতে নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহারকে মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও মাছের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, “এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য টেকসই পদ্ধতি আবিষ্কার করা জরুরি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানি বাড়ানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। মাছের সম্ভাবনা যেমন প্রচুর, তেমনি রয়েছে দুর্ভাবনাও। তাই সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রকৃতির প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাগরে বৈজ্ঞানিক জরিপ ও তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আগামী দশ বছরে মাছ উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। তবে এজন্য গবেষণা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো জরুরি।
আপনার কী মনে হয়? টেকসই মাছ আহরণের জন্য সরকার, জেলেরা এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করা কতটা জরুরি?
