পালিয়ে ভারতে আশ্রয় — নিউ টাউনে গোপন জীবনযাপনে সাবেক নেতারা

স্বৈরশাসনের পতনের পর আওয়ামী লীগের বহু প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় ভাড়া করা বাসা বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাবেক নেতারা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। খুব বেশি বাইরে না গিয়ে বাসাতেই সময় কাটাচ্ছেন— ভার্চুয়াল মিটিং, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর রান্না করে পার করছেন দিন। নিউ টাউনকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে প্রশস্ত সড়ক, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়া, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, চিকিৎসা সুবিধা এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান।

দ্য প্রিন্ট দাবি করেছে, তারা একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে কথা বলেছে। এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী জানান, “প্রতিটি দিন কাজেই কেটে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের পার্থক্যও টের পাই না।” অন্যদিকে কলকাতায় দেখা পাওয়া এক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে দেশীয় প্রশাসনও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে, কারণ ইমিগ্রেশন রেকর্ডে তার বিদেশযাত্রার কোনো তথ্য ছিল না।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউ টাউনে অবস্থানরত নেতাদের কেউ কেউ দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সাবেক এমপি বলেন, তারা আসলে এখানে বিশ্রাম নিতে আসেননি, বরং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতেই আছেন। যদিও ‘গোপন পার্টি অফিস’ চালানোর গুঞ্জনকে তিনি নাকচ করেন, বরং এটিকে তিনি বলেন “দলীয় মিলনকেন্দ্র”।

কক্সবাজারের এক সাবেক এমপি জানান, তার দৈনন্দিন জীবন এখন একেবারে নিয়মমাফিক— নামাজ, জিম, রান্না, আর সন্ধ্যায় অনলাইন মিটিং। কারও রান্নার দক্ষতা না থাকলেও ভিডিও কলে পরিবারের সাহায্য নিয়ে দিন পার করছেন তারা।

এছাড়া, এক সাবেক কূটনীতিক বর্তমানে কানাডার অটোয়ায় বসবাস করছেন। তিনি লেখালেখি করছেন এবং সীমিত বাজেটে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক সাবেক এমপি ব্যক্তিগত কারণে দিল্লির এক ক্লিনিকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন। তার ভাষায়, “চুল উঠে যাচ্ছিল। এখন নতুন করে মাথায় চুল উঠতে দেখে মনে হচ্ছে অন্তত কিছু একটা ভালো হলো।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাদের অনিশ্চয়তা থাকলেও কেউ কেউ এখনও আশা ছাড়েননি। আবার কেউ এই সময়কে দেখছেন ব্যক্তিগত পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে— আপাতত নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ভারতে অবস্থান দীর্ঘায়িত হতে পারে।

প্রশ্ন রইল: ভারতে আশ্রয় নেওয়া এসব সাবেক নেতারা কি সত্যিই কেবল অপেক্ষা করছেন সময় ফেরার জন্য, নাকি ধীরে ধীরে নতুন জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন?

Next News Previous News