পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক নিয়ে ক্রেমলিনের অনাগ্রহ, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে আবারও আলোচনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে না ক্রেমলিন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও দুই নেতাকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ উদ্যোগ সামনে আনেন। তাঁর ভাষায়, “এই সংঘাতের সমাধান সহজ নয়, আর হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যাবে কেন রাশিয়া চুক্তি করতে চাইছে না।”

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন তিনি আলোচনায় উদার মনোভাব রাখছেন। কিন্তু এর পরদিনই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের বৈঠকের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হয়, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কাজ শেষ করতে হয়।”

এদিকে জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরাসরি আলোচনার সুযোগ অস্বীকার করা হয়নি। তবে শুধুমাত্র দেখানোর মতো বৈঠকের কোনো মানেই হয় না।

খবরে জানা যায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যেন মস্কোতে গিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু কিয়েভ এ প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবাস্তব প্রস্তাবেই বোঝা যায় উভয় পক্ষের অবস্থান কতটা ভিন্ন।

অন্যদিকে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে পেরেছেন যে, শান্তিচুক্তির জন্য কিয়েভের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো যদি স্থলসেনা পাঠায়, যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে সহায়তা দিতে রাজি—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে একটি জোট ইউক্রেনে শান্তি রক্ষার বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকেও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা এ নিয়ে কাজ করবে।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না অনেকেই। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পুতিনকে “শিকারি ও দানব” মনে করেন তিনি। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের মতে, “পুতিনের ওপর ভরসা করার কোনো কারণ নেই।”

অন্যদিকে আগামী দিনগুলোতে আরও বৈঠক হবে, তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন সমর্থন কতটা জোরালো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্রিটেনের সেনাপ্রধান ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন ইউক্রেনে শান্তি রক্ষার বাহিনী বিষয়ে আলোচনা করতে। আর ন্যাটো সামরিক প্রধানরাও শিগগির ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন।

প্রশ্ন এখন একটাই: এত জটিল অবস্থার মধ্যেও পুতিন ও জেলেনস্কি কি সত্যিই আলোচনার টেবিলে বসবেন, নাকি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে?

Next News Previous News