“গণতান্ত্রিক শক্তির বিভেদ শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা” — ভার্চুয়াল আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সতর্ক করেছেন—গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি দূরত্ব তৈরি হয়, তবে তা পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্রের পুনর্বাসন সহজ করে তুলবে। তাঁর ভাষায়, “গণতন্ত্রকামী জনগণকে এখনই সতর্ক হতে হবে।”
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।
রাজনৈতিক ইস্যুতে অযথা বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতায় বলা হয়, “একাত্তর ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর চব্বিশ স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।” তিনি মনে করিয়ে দেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ইতিহাসের এক ফ্যাসিস্ট শাসকের বিদায় ঘটেছে। এখন যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়, তবে তা হবে শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি অবমাননা।
প্রচলিত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নই বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতি।” একইসাথে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও তিনি দলের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই বার্তা এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে—গণতন্ত্রকামী শক্তিগুলো কি নিজেদের বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে, নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই ভবিষ্যতের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে?
