রাশিয়ার কড়া জবাব: যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল মস্কো
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ফের চরমে—যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাশিয়ার সীমান্তের কাছে মোতায়েনের পর এবার কড়া জবাব দিল মস্কো। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস বা আইএনএফ চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসছে।
১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি করেছিল। মূল শর্ত ছিল—কোনো পক্ষই আর পরস্পরের দিকে তাক করে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করবে না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই শর্ত ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার সীমান্তসংলগ্ন ‘উপযুক্ত স্থানে’ দু’টি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, “রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের সাম্প্রতিক উচ্চমাত্রার উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ শব্দের পরিণতি হতে পারে বিপজ্জনক। আমি আশা করি, এমন কিছু ঘটবে না যা আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।”
এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব এসেছে মস্কো থেকেও। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে মেদভেদেভ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাশিয়াবিরোধী নীতিই আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আল্টিমেটাম খেলায় মেতে উঠেছেন, কিন্তু রাশিয়ার কাছে এসব ‘নাটুকেপনা’র গুরুত্ব নেই।”
তাঁর ভাষায়, “প্রতিটি নতুন আল্টিমেটামের মানে হচ্ছে যুদ্ধের দিকে আরও এক কদম এগিয়ে যাওয়া।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রাশিয়া যেমন আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে এসেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও পরমাণু মোতায়েনের মাধ্যমে সামরিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক আপডেট: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ শান্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে "সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান" খোঁজার তাগিদ দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যায়—স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতি ফের জেগে উঠছে কি? আর বিশ্ব কি এক নতুন পরমাণু উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়ে?
