বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির নতুন ষড়যন্ত্র
গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারায় পূর্বতন সরকার। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন ড. ইউনূস। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থানরত সাবেক নেত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে গোপনে বৈঠক করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। অভিযোগ উঠেছে—এই বৈঠকে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে নাশকতা ঘটিয়ে একটি অরাজক পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা হয়, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করা যায়।
সূত্র আরও দাবি করেছে, বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কথাও সেখানে চূড়ান্ত হয়। তার ভাষায়, “এই অর্থ আন্তর্জাতিক লবিং, অস্থিরতা সৃষ্টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করা এবং মুক্ত জামিন কার্যক্রমে ব্যয় করার জন্য ভাগ করা হয়েছে।”
মক্কা থেকে দিল্লি—বহুপর্বের সফর
অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল আলম প্রথমে মক্কায় পলাতক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোটেল কেনার আলোচনা হয়। এরপর তিনি মদিনা ও দুবাই ঘুরে বিশেষ ফ্লাইটে পৌঁছান দিল্লিতে।
দিল্লিতে অবস্থানকালে তিনি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সাবেক নেত্রীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, যা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয় বলে জানা গেছে। সেখানে ভারতের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা
অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচনায় নির্দিষ্ট পাঁচটি খাতে অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়—
- আন্তর্জাতিক লবিং ও বিদেশি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করা
- দেশজুড়ে নাশকতা ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি
- আমলা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রভাবিত করা
- দলীয় নেতাকর্মীদের জামিন কার্যক্রমে ব্যয়
- শ্রমিকদের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠন
এই অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনজনকে, যাদের নামও উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, পরিকল্পিত এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আবারও চাপে পড়তে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
