রুমিন ফারহানাকে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে: হাসনাত

বিএনপির সহআন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

হাসনাত বলেন—“বিভিন্নভাবে রুমিন ফারহানাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নারীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা, চরিত্র হনন করা—এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘মায়ের ডাক’-এর আয়োজিত বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ নেবে আওয়ামী লীগ। তাঁর ভাষায়—“আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, ভিন্নমত থাকবে এবং সেগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হবে। কিন্তু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে কেবল একটি পক্ষই লাভবান হবে।”

কুৎসা রটনার সমালোচনা

হাসনাত আরও বলেন—“কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহনন গণতন্ত্রের শত্রু। ৫ আগস্টের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছিল, সেটিকে ধরে রাখতে হবে।”

গুম ও দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ

গুম কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়—“যারা এখনও স্বজনদের সন্ধান পাচ্ছেন না, তাদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নই, বরং চাই এগুলোর সংস্কার হোক, যেন প্রতিষ্ঠানগুলো জনমুখী হয়। প্রধান উপদেষ্টাকে অবশ্যই একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটলেও ইতিহাসে যারা গুমের শিকার, তাদের পরিবারগুলো এই দায় থেকে কাউকে মুক্তি দেবে না।”

শেষকথা

সাইবার বুলিং থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রসঙ্গ—সবকিছু মিলিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান। প্রশ্ন থেকে যায়—বিভিন্ন দলের এই পারস্পরিক ভিন্নমত ও বিভেদ কি সত্যিই ঐক্য ধরে রাখতে পারবে?

Next News Previous News