ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টানাপোড়েনে ফিজির প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: “আপনার প্রতি কেউ খুশি নয়”
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্ককে ঘিরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনে, তখন ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিতিভেনি লিগামামাদা রবুকা দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “আপনার প্রতি কেউ খুশি নয়।”
তবে তিনি একইসঙ্গে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আপনি যথেষ্ট শক্তিশালী, এসব অস্বস্তি সামলে নিতে পারবেন।” এনডিটিভি জানায়, দিল্লির সপ্রু হাউসে ‘ওশান অব পিস’ শীর্ষক বক্তৃতা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিন দিনের ভারত সফরে রবুকা সমুদ্র নিরাপত্তা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা খাতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছিলেন। সোমবার মোদি-রবুকা বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘ওশান অব পিস’ ধারণার আন্তর্জাতিক সাড়া নিয়ে রবুকা বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন। অনেক বড় দেশের নেতারাও গুরুত্ব দিচ্ছেন।” তাঁর মতে, ছোট ও দুর্বল দেশের উদ্বেগও বিশ্বপরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর। এর মধ্যে চিংড়ি, পোশাক, চামড়া, রত্ন ও গয়নার মতো শ্রমনির্ভর রপ্তানি খাত বড় ধাক্কা খাবে। তেল আমদানির ক্ষেত্রেও রাশিয়া থেকে আনা অপরিশোধিত তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এই পদক্ষেপে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও চাপে পড়েছে।
মোদি ও রবুকার বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক খাত ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে “ব্যাপক ও ভবিষ্যতমুখী আলোচনা” করেছে।
✅ সর্বশেষ আপডেট
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ভারতের রপ্তানি খাত ইতোমধ্যেই অর্ডার বাতিলের চাপে পড়েছে। বিশেষ করে পোশাক ও গয়না শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি দ্রুত সমাধান না আসে তবে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
প্রশ্ন হলো— ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টানাপোড়েন কি শুধু অর্থনীতিতেই সীমিত থাকবে, নাকি তা কূটনৈতিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে?
