রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে গ্লোবাল সাউথকে আহ্বান জেলেনস্কির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠকের পর এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এই সংঘাত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।”
জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি বৈঠকে প্রস্তুত। তবে তাঁর অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। তাই গ্লোবাল সাউথকে “শান্তির পথে প্রাসঙ্গিক সংকেত” পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মস্কোর ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “কোনো অগ্রগতি না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করা হবে।”
ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছেন। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, এখনই এরকম বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর ভাষায়, “পুতিন তখনই জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত, যখন বৈঠকের জন্য উপযুক্ত কার্যসূচি থাকবে, যা এখনো তৈরি হয়নি।”
কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের সেনারা দোনেৎস্ক অঞ্চলের স্রেডনে ও ক্লেবান-বাইক নামের দুটি গ্রাম দখল করেছে। এতে ক্রামাটোরস্কের দিকে আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বজুড়ে শান্তির জন্য চাপ অব্যাহত থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই চাপ কি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যথেষ্ট হবে?
