আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: ইউক্রেন যুদ্ধই মূল এজেন্ডা

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় মুখোমুখি বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আসন্ন এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়— ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, যদিও দুই নেতার অগ্রাধিকার ভিন্ন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইউক্রেনে দখলকৃত এলাকা ধরে রাখার পক্ষে অনড়। অন্যদিকে ট্রাম্প চান নিজেকে বৈশ্বিক শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। উভয় পক্ষই বৈঠক থেকে আলাদা ধরনের সুযোগ পেতে পারে— পুতিনের জন্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন, আর ট্রাম্পের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব।

পুতিনের লক্ষ্য: স্বীকৃতি ও দখল বজায় রাখা

পুতিনের কাছে এই বৈঠকই প্রমাণ করছে, পশ্চিমা বিশ্ব তাকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আলাস্কা বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা, ভূগোল ও ঐতিহাসিক প্রতীক— ঊনবিংশ শতকে রাশিয়া আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্রি করেছিল।

তাঁর দাবি, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন— এই চারটি দখলকৃত অঞ্চল পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ইউক্রেন সেসব এলাকার অবশিষ্ট অংশ থেকেও সরে যাবে। ইউক্রেন ইতোমধ্যেই এই শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই দাবিকে সমর্থন করে, তবে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সহায়তা বন্ধ হতে পারে, যা মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ খুলে দেবে। যদিও রাশিয়ার অর্থনীতি এখন বাজেট ঘাটতি ও রপ্তানি আয় হ্রাসের চাপের মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য: শান্তি প্রক্রিয়ায় কৃতিত্ব নেওয়া

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। তবে ক্ষমতায় ফেরার পর তার অবস্থান কখনো ইউক্রেনের পক্ষে, কখনো রাশিয়ার সমালোচনায় থেকেছে।

ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে তিরস্কার করেন এবং সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি “ল্যান্ড-সোয়াপিং” প্রস্তাব তুলেছেন— অর্থাৎ শান্তির বিনিময়ে ভূখণ্ড ছাড়, যা কিয়েভের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ট্রাম্প বৈঠককে কখনো “শুনানি সেশন” বলেছেন, আবার কখনো দাবি করেছেন, “দুই মিনিটের মধ্যেই বুঝে যাবেন চুক্তি সম্ভব কি না।” তবে বছরের শুরু থেকেই তিনি চান, যুদ্ধের অবসান ঘটানো নেতার পরিচয় যেন তার হয়— এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষাও অস্বীকার করেননি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকের আগে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, যেন কিয়েভের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না করা হয়। তবে যদি বৈঠকের শেষে তিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির দাবি করতে পারেন, সেটি অবশ্যই নেবেন— আর পুতিনও তা হতে দিতে পারেন, তবে রাশিয়ার শর্তে।

সাম্প্রতিক আপডেট

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আলাস্কায় বৈঠকের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যা বৈঠকের ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।

প্রশ্ন হচ্ছে— এই বৈঠক কি সত্যিই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পথে এগিয়ে নেবে, নাকি এটি হয়ে উঠবে কেবল প্রতীকী রাজনৈতিক প্রদর্শনী?

Next News Previous News