খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দোয়া মাহফিল: অতীতের বন্দিজীবনের বেদনাময় স্মৃতি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসনের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ সারাদেশেই এই আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় দলের এক শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, “দেশনেত্রীকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের এমন এক কক্ষে রাখা হয়েছিল, যেখানে ইঁদুর আর পোকামাকড় চলাফেরা করত। অন্যায়ভাবে তাকে ছাদের ওপর একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছিল। যারা এ ধরনের নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সংকটময় সময়ে খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোবল, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন নেতৃত্ব এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তুলনাহীন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে ছিলেন। এ সময় তিনি নানা রোগে আক্রান্ত হন। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হলেও তৎকালীন সরকার তা মঞ্জুর করেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের মার্চে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায় অবস্থান শুরু করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬—এই তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদা জিয়া।

এদিনের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জানান, ঢাকার বাইরে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই আয়োজন করা হয়েছে।

প্রশ্ন রইল—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার পরও কি খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব আগামীর রাজনীতিতে আবারও প্রভাব ফেলতে পারবে?

Next News Previous News