বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫০ বছর: ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক সপরিবারে হত্যা করে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী পর্যন্ত কেউ রক্ষা পাননি।

আজ তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রায় ৪৯ বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হয় বিচারের প্রক্রিয়া।

১৯৭৫ সালের সেই ভোরে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে—শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল—শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের। একই রাতে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি; নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু।

এছাড়া পুলিশ বিশেষ শাখার সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু ভবনের অদূরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলও সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঢাকার বনানি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রণয়ন এবং ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলার প্রধান আসামি হয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা।

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—পাঁচ দশক পরও জাতি কি এই বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পেরেছে?

Next News Previous News