ভারতীয় আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার শুল্কফাঁক
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে শুল্ক আদায় ও শুল্কছাড়কে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এনবিআরের দাবি, বিপিডিবি শুল্ক পরিশোধে অনীহা দেখাচ্ছে, কিন্তু বিপিডিবি তাদের পক্ষ থেকে বলছে, শুল্কছাড় না দেওয়া হলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বিপিডিবি জানিয়েছে, শুল্কছাড় না হলে বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধি করতে হবে বা সরকারকে ভর্তুকি আকারে অর্থ দিতে হবে। “তাঁর ভাষায়, ‘আমরা শুল্কছাড়ের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। কিন্তু এনবিআর সাড়া না দিলে চুক্তি অনুযায়ী বিপিডিবিকে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। আমাদের পক্ষে এটি সম্ভব নয়, তাই আমরা ভর্তুকি চাইব,’” বলেন বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।
গত মার্চে রুহানপুর কাস্টমস স্টেশন থেকে আদানি প্রকল্পের বিদ্যুৎ আমদানি পর্যায়ে ৪,৭৬৮ কোটি ৪৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার শুল্ক পরিশোধের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হলেও, ২০২২ সাল থেকে এনবিআরের পক্ষ থেকে শুল্কছাড়ের কোন আদেশ জারি হয়নি। এ পর্যন্ত বিপিডিবি মোট সাত দফা চিঠি পাঠিয়েছে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, “এটি নিয়ে আমরা এখনো আলোচনা করিনি। আগে বিষয়টি বুঝতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ২৫ বছরের জন্য ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হয় এবং ১২৮ কোটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ডলার মূল্যের বিদ্যুৎ কেনা হয়। এর ওপর প্রযোজ্য ৩১% শুল্কের মধ্যে ৫% আমদানি শুল্ক, ১৫% ভ্যাট, ৫% অগ্রিম কর ও ৫% অগ্রিম আয়কর রয়েছে। তবে বিপিডিবি কোনো শুল্ক জমা দেয়নি।
তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে, রাজশাহী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বৃহৎ করদাতা ইউনিট এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসকে শুল্ক আদায়ে দায়িত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু এখনও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি।
বিপিডিবি বলছে, আদানি বিদ্যুৎ আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য, তবে এনবিআরের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, তদন্ত কমিটি জানাচ্ছে, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে শুল্ক অব্যাহতির উল্লেখ থাকলেও তা কার্যকর করার দায়িত্ব বিপিডিবির।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হচ্ছে, দুই সরকারি সংস্থার মধ্যে এই “চিঠিপত্র খেলা” কখন শেষ হবে এবং শুল্ক পরিশোধের বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা হবে?
