কুর্স্কের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা, বিকিরণ ঝুঁকি নেই

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্স্ক অঞ্চলের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লাগে, তবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—বিকিরণ স্তর স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাশিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করে। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়ে একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) উভয় পক্ষকেই সতর্কতা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে।

ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমাদের সহায়তার ঘোষণা

আজ ইউক্রেন তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিনটিকে কেন্দ্র করে এই দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, তাঁর ভাষায়, “ইউক্রেনের জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের এই বিশেষ দিনে আমরা আমাদের সহায়তা আরও বাড়াচ্ছি।”

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অপারেশন ইন্টারফ্লেক্স কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবে।

মাঠে নতুন অগ্রগতি দাবি রাশিয়ার

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের সেনারা পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের দুটি গ্রাম দখল করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রযাত্রা ধীরগতির এবং ব্যাপক প্রাণহানির বিনিময়ে হচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড।

শান্তি আলোচনার ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ

সম্প্রতি আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককে শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও ট্রাম্প পরে প্রকাশ্যে ধীরগতির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে কী করব, সেটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় বিশাল নিষেধাজ্ঞা, নয়তো বড় অঙ্কের শুল্ক—অথবা কিছুই নয় এবং বলব এটি তোমাদের যুদ্ধ।”

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় মিত্ররাও তাঁর অবস্থান সমর্থন করেছেন। তবে জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি বৈঠক এড়াচ্ছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, তাঁর ভাষায়, “পুতিন ইউক্রেনের নেতার সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত আছেন, তবে একটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা তৈরি হতে হবে। এখন পর্যন্ত কোনও এজেন্ডা প্রস্তুত হয়নি। জেলেনস্কি প্রতিটি প্রস্তাবে ‘না’ বলছে।”


প্রশ্ন রইল: চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে কতটা আশ্বস্ত হওয়া যায় বলে আপনি মনে করেন?

Next News Previous News