এনডিএ চুক্তি: দেশের স্বার্থ আগে, প্রয়োজনে সংশোধন বা বাতিলের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তাঁর ভাষায়, “চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী হলে সেটি পরিবর্তন, সংশোধন কিংবা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টারের নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আলোচনার শুরুতেই তিনটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকায় ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে চুক্তির বাইরে রাখা হবে না এবং এজন্য সংশোধন বা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের সক্ষমতার বাইরে কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না। তৃতীয়ত, চুক্তিতে কোনো তৃতীয় দেশের নাম উল্লেখ থাকবে না।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এনডিএ একটি প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশকেই এটি করতে হয়। আলোচনার পর্যায়ে খসড়া গোপন রাখা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাঁর ভাষায়, “চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করব সেটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে।”

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ৬-৭ মাস বাকি থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সক্রিয়ভাবে শুল্ক হ্রাসে আলোচনা করছিল, যা না হলে বাংলাদেশের শুল্ক হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারত।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক হার প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত এখনও এই সুবিধা পায়নি এবং কানাডা আলোচনায় পিছিয়ে থাকায় বড় শুল্ক চাপের মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, অন্তত আলোচনাটি এই পর্যায়ে আনতে পারা নিজেই একটি অর্জন।


প্রশ্ন: আপনার মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এ ধরনের গোপন চুক্তি কতটা কার্যকর হতে পারে?

Next News Previous News