বাংলাদেশি পর্যটক বন্ধ, কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশে’ ৫ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা বন্ধ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত এলাকায়, যেখানে ব্যবসায়ীদের মতে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৫ হাজার কোটি রুপি।
ভারতের ভিসা বন্ধের কারণে একসময় পর্যটকে ভরা নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মারকুইস স্ট্রিট এলাকা এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু এই এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্র্যাভেল এজেন্সি, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, চিকিৎসা সেবা এবং পরিবহন খাত মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি রুপির ব্যবসা হতো। এখন সেই আয় নেমে এসেছে অপ্রত্যাশিতভাবে নিচে।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতার ভাষায়, “নিউ মার্কেট ও বড়বাজারসহ ক্ষতির পরিমাণ মিলিয়ে ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি হয়েছে।”
একসময় ভিড়ে ঠাসা এই এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ এখন অনেকটাই খালি। অনেক ছোট ও মাঝারি খাবার দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একটি রেস্তোরাঁ মালিকের ভাষায়, “ব্যবসা এখন আগের মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। আমরা কেবল টিকে থাকার চেষ্টা করছি।”
বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় মুদ্রা বিনিময় ব্যবসাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কারেন্সি এক্সচেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্রতিনিধি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
প্রভাব পড়েছে পর্যটন নির্ভর অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতেও—যেমন হোমস্টে, স্থানীয় ট্যুর গাইড, গাড়ি ভাড়া সেবা, ঘরে তৈরি খাবারের সরবরাহ। একজন স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী জানান, মহামারির পর চাহিদা বাড়ায় নতুন গাড়ি কিনেছিলেন, কিন্তু এখন মাসে গড়ে পাঁচ-ছয়টি বুকিংও পান না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন সংকট তাঁদেরকে আরও গভীর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে। অনেকেই ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মানসিক চাপেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, দুই দেশের এই ভিসা সংকট কবে কাটবে? আর ততদিনে কি ‘মিনি বাংলাদেশ’-এর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে?
