গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, অবরোধে সংকট গভীরতর
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ২২ মাস ধরে চলা হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। যুদ্ধের পাশাপাশি কঠোর অবরোধে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জামের ঘাটতি তৈরি হয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বহু পরিবার আজ দুর্ভিক্ষের মুখে।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি গাজায় আরও ১০০ টন মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। সহায়তার মধ্যে রয়েছে ‘রেডি-টু-ইট’ খাবার, শিশুদের জন্য গুঁড়া দুধ, বিস্কুট ও জরুরি ওষুধ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্যমতে, সোমবার ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে এই চালান পৌঁছে যাবে গাজায়।
রোববার ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) চেয়ারম্যানসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান এই সংকটময় মুহূর্তে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে আছে এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।” তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখা অনুসারে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
এবারের ১০০ টন চালানটি ২০০ টন সহায়তার প্রথম ধাপ। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫ টন রেডি-টু-ইট খাবার, ২০ টন শিশু খাদ্য, ৫ টন বিস্কুট ও ১০ টন ওষুধ। এই চালান পাঠানোর পর গাজায় পাকিস্তানের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭১৫ টনে, যা পরবর্তী চালান পৌঁছালে হবে ১ হাজার ৮১৫ টন।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে এই সহানুভূতি ও উদারতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, টানা সংঘাত ও অবরোধের এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট উদ্যোগ নেবে?
