ট্রাম্প বনাম পুতিন: দুই পরাশক্তির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নাকি শান্তির সম্ভাবনা?
দুই মহাশক্তিধর নেতার মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। বিবিসির বিশ্লেষণে একে তুলনা করা হয়েছে দুই লোকোমোটিভের সঙ্গে—একটি ট্রাম্পের, আরেকটি পুতিনের। উভয় ট্রেনই বিপরীত দিক থেকে একই রেলপথে ধেয়ে আসছে, কিন্তু কোনোটি থামার জন্য প্রস্তুত নয়।
পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ইউক্রেনে এখনো অব্যাহত। যুদ্ধবিরতির কোনো আভাস নেই মস্কোর পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছেন। সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ শুল্কের। এমনকি তার ভাষায়, “রাশিয়ার কাছাকাছি দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে।”
এই ঘোষণাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—এই কি সেই মুহূর্ত, যখন হোয়াইট হাউস ও ক্রেমলিন সরাসরি সংঘর্ষের পথে হাঁটবে? নাকি এসব ‘নাটকীয়তার’ পেছনেই লুকিয়ে আছে এক সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত?
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এর মধ্যেই চারবার রাশিয়া সফর করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর আহ্বান। যদিও পুতিন বারবার যুদ্ধ বন্ধে অরাজি থেকেছেন, তিনি দাবি করেছেন কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী।
গত মাসে ট্রাম্প পুতিনকে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দেন, পরে তা কমে দাঁড়ায় ১০ দিনে। এই সময়সীমা এখন শেষপ্রায়। তবুও মস্কোর তরফ থেকে নমনীয়তার কোনো আভাস নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি জটিল। একদিকে ট্রাম্প নিজেকে দেখাচ্ছেন এক ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে। অন্যদিকে, তার আল্টিমেটাম ও সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। মজার বিষয় হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতেও দুই নেতা একে অপরের দেশ সফরের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, এমনকি জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
তাঁর ভাষায়, “রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভালো কিছুই করবে বলে মনে করছি না।” এ বক্তব্যে যেমন হতাশা আছে, তেমনি এক ধরনের আশাবাদও প্রকাশ পেয়েছে।
এই সপ্তাহে আবারও রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত উইটকফ। নতুন কোনো শান্তিপ্রস্তাব আসতে পারে—এমনই ধারণা বিশ্লেষকদের। কেউ কেউ বলছেন, এবার কাঠির বদলে ‘গাজর’ দেখানোর পালা।
প্রশ্ন উঠছে—ট্রাম্প ও পুতিন সত্যিই কি মুখোমুখি সংঘর্ষে যেতে চান, নাকি সব নাটকীয়তার পরও শান্তির জন্য দরজা এখনো খোলা আছে?
