গণভবন ছাড়ার গুঞ্জন: উত্তাল ঢাকায় শেখ হাসিনার রহস্যময় প্রস্থান
রাজধানীজুড়ে মানুষের ঢল, উত্তরা থেকে শনির আখড়া—সবদিক থেকে ছুটে আসছে লাখো জনতা। এমন এক উত্তাল পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে গুজব—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি গণভবন ছেড়ে গেছেন!
একজন প্রেস সচিবের ভাষায়, “গত বছরের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই দেখছিলাম ঢাকামুখী মানুষের ঢল। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে এক সূত্র থেকে জানতে পারি, উনি (শেখ হাসিনা) তো গণভবন ছেড়ে চলে গেছেন। এমনকি বলা হয়, উনি ভারতেও চলে যেতে পারেন!”
কিন্তু সাংবাদিকদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তথ্য নিশ্চিতকরণ। এএফপি প্রথমে একক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশে পিছিয়ে যায়। কারণ, “যদি তথ্য মিথ্যা হয় বা তিনি ফিরে আসেন, তাহলে সেটি রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে”, বলেন সংশ্লিষ্ট এক সাংবাদিক।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় একটি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী অঞ্চল থেকে প্রায় ৮.৫ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছে। এসএসএফের আশঙ্কা ছিল, এই জনস্রোত সামাল দেওয়া অসম্ভব হবে। সেই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে গণভবন ছাড়ার জন্য ‘জোর’ করা হয়।
তাঁর ভাষায়, “শেখ হাসিনা বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এসএসএফ সময় না থাকায় তা অনুমোদন করেনি।”
পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার হয়ে ক্যান্টনমেন্ট ঘুরে কুর্মিটোলা এয়ারবেস দিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার। কিন্তু উত্তরার দিক থেকে জনস্রোত আসতে থাকায় পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে পুরনো তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে গমন করেন তিনি।
সংবাদটি প্রকাশের পর এএফপির বিভিন্ন ক্লায়েন্ট পত্রিকা ও টেলিভিশনগুলো খবরটি প্রচার করে। এরপরে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বলেন, “আমি তখন টেনশনে পড়ে যাই, সুরা-কেরাত পড়া শুরু করি। যদি উনি ফিরে আসতেন, তাহলে আমার জীবন শেষ হয়ে যেত।”
দুপুর ২টার দিকে বিটিভিতে সেনাপ্রধানের ভাষণের স্ক্রল দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, শেখ হাসিনা সত্যিই চলে গেছেন। ততক্ষণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
