চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা

অনিরাময়যোগ্য জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চীনের কুনমিংয়ের বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সরবরাহ করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমারসহ আশপাশের দেশগুলোর রোগীরা এসব হাসপাতালে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরছেন।

চিকিৎসারত বাংলাদেশি রোগীদের স্বজনরা সেবা, চিকিৎসা পদ্ধতি ও খরচ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কুনমিং সফরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একাংশ হাসপাতালগুলো ঘুরে এসব সুবিধার সরাসরি সাক্ষী হয়েছেন।

বাংলাদেশ-চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে কুনমিং সফরের আয়োজন করে। প্রদেশের হেলথ কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়াং জিয়ানকুন জানান, “বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্প খরচে সর্বোচ্চমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার।”

হাসপাতালগুলোর প্রেসিডেন্ট ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ভাষাগত সমস্যার সমাধানে দোভাষী ও ইংরেজিভাষী ডাক্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডা. আরিফিন ইসলাম বলেন, “আমাদের ডাক্তাররা রোগীর প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে থাকেন। একজন ডাক্তারের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকেন এবং রোগীদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।”

রোবটিক সার্জারি ও উচ্চতর প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীরা কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন। কুনমিং টংগ্রেন হাসপাতালের এক বাংলাদেশি রোগীর ভাই সফররত সাংবাদিকদের বলেন, “চারদিন আগে ছোট ভাইয়ের মেরুদণ্ডের হাড় প্রতিস্থাপন হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের ডাক্তারদের কাছে গিয়ে গত তিন বছরে যা খরচ করেছি, তার চেয়ে এখানে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পেয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, “প্রাথমিকভাবে কুনমিংয়ের তিনটি প্রধান হাসপাতাল এবং পরে বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক বিভাগ, ইংরেজিভাষী ডাক্তার, নার্স, হালাল রেস্তোরাঁ ও অনুবাদ সেবা চালু করা হয়েছে।”

চীনে চিকিৎসার সুবিধা আরও সহজ করার জন্য সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের রোগী ও তাদের স্বজনরা এখন কম ঝামেলায় উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন।

চিন্তার বিষয়: আপনার মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সুযোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য কি সহায়ক হতে পারে, নাকি দেশে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উচিত?

Next News Previous News