রাজনৈতিক চেতনা ও প্রশাসনিক বিতর্ক
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আজকে আমরা যেখানেই যাই, শুনি একটি সংগঠনের লোক সেখানে বসে আছে। ডিসি কে? তারা বলছে এটা একটি বিশেষ দলের লোক। ওরা ডিসিগিরি করছে না, ওখানে তারা তাদের সংগঠনের কাজ করছে।”
রিজভী আরও উল্লেখ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি কর্মকর্তাকে নিয়োগের শর্ত হিসেবে রুকন হওয়ার বাধ্যবাধকতা চাপানোর অভিযোগ রয়েছে। “আমি এমনও শুনেছি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যিনি ডিজি, তিনি তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলেছেন, তোমরা রুকন না হলে চাকরি থাকবে না। এটা একদম সত্য কথা,” তিনি বলেন।
সভায় রিজভী স্মরণ করেন, “এ জন্যই আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম শেখ হাসিনার পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছেন। নিজের শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে পুলিশের গুলি বরণ করে নিয়েছেন এই গণতন্ত্রের জন্য। একটি রাজনৈতিক চেতনার রঙ আমাদের প্রশাসন থাকবে?” তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রিজভী সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘অপশাসন, দুঃশাসন, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, টাকা লুট, চাঁদাবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, চাকরিবাণিজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এ জন্য দেড় হাজারের মতো শিশু-কিশোর, তরুণ শ্রমিক, রিক্সাওয়ালা জীবন দিয়েছেন। এই উপলব্ধি তো সবার হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এখনো তো নির্বাচন হয়নি। কে ক্ষমতায় যাবে জনগণ কাকে ভোট দিবে এটা তো এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। তাহলে এই কথাগুলো এখনই কেন আসছে? অনেক সরকারি দপ্তর থেকে অনেকেই আসছেন, তারা বলছেন আমরা কী করবো ভাই। আমরা যদি ওই দলের সদস্য, রুকন না হই আমরা তো চাকরি করতে পারবো না।”
রিজভী প্রশাসনের বর্তমান ধারা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। “শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার ভূত, তার আত্মারা নতুন করে নতুন কায়দায় নতুন চেতনায় আবার ভর করেছে। এটার জন্য তো এই ছেলেরা জীবন দেয়নি।”
তিনি গণতন্ত্রের চেতনা ও দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সেই গণতন্ত্র চেয়েছি যে গণতন্ত্রে এই দেশের ভোটাররা ভোট দিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে। এ জন্যই আমাদের লড়াই, এ জন্যই আমাদের এত সংগ্রাম এত ত্যাগ। স্কুল, কলেজের ছেলেরা এত রক্ত দিয়েছে, নিজেদের জীবন দিয়েছে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী প্রমুখ। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মীর সরফৎ আলী সপুর।
প্রশ্নে পাঠক ও দর্শক ভাবতে বাধ্য: একটি দেশের প্রশাসন কি রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত, নাকি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে? এই দ্বন্দ্বের প্রভাব কি ভবিষ্যতের নির্বাচন ও নাগরিক অধিকারকে প্রভাবিত করবে?
