নির্বাচন ঘোষিত সময়েই হবে: বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে নতুন আলোচনার ঝড়
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, “নির্বাচন নিয়েই মানুষের মনে যে বিভ্রান্তি, তা কাটিয়ে উঠতে হবে। নির্বাচন হবেই এবং ঘোষিত সময়ের মধ্যেই হবে।”
তাঁর ভাষায়, “রাজনীতিতে মতভেদ থাকবেই। তবে নির্বাচন না হলে জাতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। তখন ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার আশঙ্কা অনেক বাড়বে।” তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তাই নির্বাচন জরুরি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, “একটা ষড়যন্ত্র চলছে— উদারপন্থী রাজনীতিকে সরিয়ে উগ্রবাদকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে। এটি দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।” তিনি উদার গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইছে। আপনারা তাদের সুযোগ দেবেন না। ক্ষমতা এখনো হাতে আসেনি, সামনে অনেক ষড়যন্ত্র অপেক্ষা করছে।”
নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “কিছুদিন আগে হতাশার কথা বলেছিলাম। এতে অনেক কাছের মানুষ ভৎসনা করেছেন। তবে বয়সের এই পর্যায়ে এসে যখন দেখি আমার স্বপ্ন, লড়াই, সংগ্রাম ম্লান হয়ে যাচ্ছে— তখন স্বাভাবিকভাবেই হতাশা আসে।”
‘রক্তাক্ত জুলাই’ বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জুলাইয়ের সংগ্রাম নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা ও সাহিত্য হয়নি। তুলনায় ভাষা আন্দোলন নিয়ে অসংখ্য কবিতা-গান লেখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই সিকদার এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই নির্বাচন ঘিরে নানা জল্পনা চলছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন হলে কি সত্যিই দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে, নাকি নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে?
