ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার নির্বাচনে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী?

ভারতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে অভিযোগ—ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই কি নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন? বিরোধী দলগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছিল জাল ভোটার যোগ আর বৈধ ভোট বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সাজানো।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে অভিযোগ করে বলেন, “ভোট চুরির এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গুজরাট থেকে, আর আজ তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।” তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে কোটি কোটি ভুয়া নাম ভোটার তালিকায় যোগ হয়েছে এবং এর প্রমাণও শিগগির সামনে আনা হবে।

এই অভিযোগে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, আরজেডি ও সমাজবাদী পার্টির মতো প্রভাবশালী বিরোধী দলগুলো। তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জী বলেছেন, “যদি এসআইআর করতে হয়, তবে গোটা দেশেই করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন—যে সময়ে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস; সেক্ষেত্রে কি কংগ্রেসেরই তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন তাকে ‘ভোট চুরি করিয়ে’ জিতিয়েছে?

নির্বাচন কমিশনও এর মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে—বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকলেও, রাহুল গান্ধী তাঁর অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট হলফনামা না দেওয়ায় এ নিয়ে কোনো তদন্ত হবে না।

এদিকে নভেম্বরের বিহার বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কমিশনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনায় ইতোমধ্যেই ৬৫ লাখের বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে—এক রাজ্যে যদি ভুয়া নাম থাকে, তবে অন্য রাজ্যে কেন থাকবে না?

প্রশ্ন এখন একটাই—এই বিতর্ক কি সত্যিই মোদি সরকারের বৈধতা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনবে, নাকি বিজেপি সফলভাবে তা এড়িয়ে যাবে?

Next News Previous News